হাওজা নিউজ এজেন্সি: পারিবারিক ও সন্তান প্রতিপালন বিষয়ক বিশেষজ্ঞ ড. সাঈদ আজিজী পরিবারে অধিক সন্তান এবং অর্থনৈতিক সক্ষমতার সম্পর্ক নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু বক্তব্য তুলে ধরেছেন। তা পাঠকদের জন্য উপস্থাপন করা হলো—
আমি আমার সম্মানিত ভাই ও বোনদের প্রতি পরামর্শ দেব, তারা যেন তিন সন্তানের কম চিন্তা না করেন।
অনেক সময় আমাকে প্রশ্ন করা হয়—“অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে কি আপনি এ বিষয়টিকে যৌক্তিক মনে করেন?”
এর উত্তরে বলতে হয়, মানুষের রিজিক আমার বা আপনার হাতে নয়; বরং তা মহান আল্লাহর হাতে।
রিজিক কেবল সেই বস্তু নয়, যা আমরা আমাদের মানসিক বা বস্তুগত হিসাব-নিকাশের মাধ্যমে কল্পনা করি। বরং রিজিকের ধারণা অর্থনৈতিক হিসাবের চেয়েও অনেক বিস্তৃত; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে নেয়ামত, রিজিক ও বরকতের মতো গভীর বাস্তবতা।
মানুষের জীবনে যা প্রবেশ করে তাকে বলা হয় “নেয়ামত”, যা তার প্রাপ্য ও অংশ হিসেবে নির্ধারিত হয় তাকে বলা হয় “রিজিক”, আর যা থেকে মানুষ প্রকৃত উপকার লাভ করে এবং যার ইতিবাচক প্রভাব জীবনে অনুভব করে, তাকে বলা হয় “বরকত”।
কিন্তু মূল বিষয়টি কোথায়?
সমস্যার শুরু হয় তখন, যখন মানুষ বিষয়টিকে কেবল অর্থনৈতিক হিসাব-নিকাশ দিয়ে বিচার করতে চায়। কেউ বলেন, “আমাদের প্রথম সন্তানের পেছনে মাসে এত টাকা খরচ হতো।” এরপর শুরু হয় বিভিন্ন ব্যয়ের তালিকা—ডায়াপার, পোশাক, স্কুলের খরচ এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যয়।
সবশেষে তারা উপসংহারে পৌঁছান যে, একটি সন্তানের জন্য মাসে ধরুন পাঁচ হাজার বা পাঁচ লাখ টাকা ব্যয় হয়। এরপর হিসাব দাঁড় করানো হয়—দুই সন্তান হলে খরচ হবে দ্বিগুণ, আর তিন সন্তান হলে তিনগুণ!
কিন্তু এ ধরনের হিসাব মূলত ভুল।
একটি সন্তানের জন্য যদি নির্দিষ্ট পরিমাণ ব্যয় হয়, তার অর্থ এই নয় যে দুই সন্তানের জন্য ঠিক দ্বিগুণ খরচ হবে কিংবা তিন সন্তানের জন্য তিনগুণ ব্যয় হবে। বরং অনেক সময় সন্তানের সংখ্যা বাড়লে কিছু ব্যয় উল্টো কমেও যায়।
উদাহরণস্বরূপ, যখন একটি শিশু একা থাকে, তখন সে সবসময় নানা ধরনের বিনোদন, খেলনা, পার্ক কিংবা বাড়তি মনোযোগের প্রয়োজন অনুভব করে। কারণ সে একাকিত্ব অনুভব করে এবং সেই শূন্যতা পূরণ করতে চায়।
কিন্তু পরিবারে যখন দুই সন্তান থাকে, তখন এসব প্রয়োজনের বড় একটি অংশ স্বাভাবিকভাবেই কমে যায়। তারা একে অপরের সঙ্গে সময় কাটায়, একসঙ্গে খেলাধুলা করে এবং পারস্পরিকভাবে নিজেদের মানসিক ও আবেগীয় চাহিদার অনেকটাই পূরণ করে। ফলে একমাত্র সন্তানের ক্ষেত্রে যেসব চাহিদা বা আবদার তৈরি হয়, তার অনেকগুলোই আর সৃষ্টি হয় না।
এ ছাড়া সন্তান প্রতিপালন বিষয়ক কিছু বিশেষজ্ঞের মতে, বাবা-মা যদি প্রথম বা দ্বিতীয় সন্তানকে সঠিকভাবে গড়ে তুলতে সক্ষম হন, তাহলে পরবর্তী সন্তানরা অনেকাংশে একে অপরের মাধ্যমে ইতিবাচক প্রভাব গ্রহণ করে এবং পারস্পরিকভাবে একে অপরকে গড়ে উঠতেও সহায়তা করে।
আপনার কমেন্ট